ইতিহাস গবেষক হাশেম সূফী পাকিস্তানের লাহোর থেকে কিতাব মান্জিল কর্তৃক ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত ও হেকীম হাবীবুর রাহমান কর্তৃক উর্দু ভাষায় রচিত মূল গ্রন্থ ‘ঢাকা পাচাস বারাস পাহলে’ বাংলা ভাষায় অনুবাদ ও গবেষণামূলক সংশোধন করে উর্দু উচ্চারণে বাংলা ভাষায় নামকরণ করেছেন “হেকীম হাবীবুর রাহমানের ঢাকা পাচাস বারাস পাহলে’ ।
হেকীম হাবীবুর রাহমান ব্রিটিশ আমলে পূর্ব বাংলা ও আসামের প্রখ্যাত হেকীমী চিকিৎসক ছিলেন। হেকীমী চিকিৎসা সেবা ও হেকীমী চিকিৎসা বিদ্যা শিক্ষকতা ছাড়াও উর্দু ভাষায় সাহিত্য চর্চা করতেন ।
মূল উর্দু গ্রন্থ ‘ঢাকা পাচাস বারাস পাহলে’ কোনো ইতিহাস পুস্তক নয়, তবে ঢাকা শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের উপাদান হিসেবে ইতিহাস গবেষকদের কাছে গ্রহণযোগ্য ।
হাশেম সূফী অত্র গ্রন্থটি অনুবাদ ও গবেষণামূলক বিশ্লেষণ করতে ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সাল মোট দুই বছর সময় নিয়েছেন। ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত মোট ৪২ কিস্তিতে ঢাকার একটি দৈনিক পত্রিকায় উল্লেখিত অনুবাদটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। ঢাকা ইতিহাস গবেষণা কেন্দ্র পুস্তকাকারে কার্তিক ১৪০২ সন অর্থাৎ অক্টোবর ১৯৯৫ সালে হাশেম সূফী’র ‘হাকীম হাবীবুর রাহমানের ঢাকা পাচাস বারাস পাহলে’ গ্রন্থটি প্রকাশ করে । দৈনিক প্রথম আলো ও দৈনিক জনকণ্ঠসহ তৎকালীন অনেক দৈনিক পত্রিকাতেই প্রশংসাসূচক বুক রিভিউ প্রকাশিত হয়। অতি সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই হারিয়ে যাওয়া লেখক হেকীম হাবীবুর রাহমান নামটি পাঠকদের কাছে পুনর্জীবন লাভ করে ।
‘হাশেম সূফী’র গবেষণামূলক মেধা সম্পর্কে ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত অত্র গ্রন্থের প্রথম প্রকাশেই ‘গুরুদের গুরু’ তথা ‘শিক্ষকদের শিক্ষক’ জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, সাবেক উপাচার্য জাতীয় অধ্যাপক ড. সৈয়দ আলী আহসান এবং বাংলাদেশের ইতিহাস কোষ তথা বাংলাপিডিয়া’র প্রধান সম্পাদক ও বিখ্যাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন ।

Reviews
There are no reviews yet.